খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল| আতংকে তিন সন্তানের জননী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল| আতংকে তিন সন্তানের জননী

ছবিতে অভিযুক্ত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নালিয়াটেকি গ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকের ছদ্মবেশে একাধিক বিবাহিত নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে মোঃ সজিব (৩৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার পুরোনো অপরাধের ইতিহাস। স্থানীয়রা অভিযুক্ত সজিবকে ‘ভয়ংকর রেপিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শিক্ষাজীবনের পতন ও অপরাধী চরিত্রের উত্থান

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সজিব বিল্লাল পালোয়ানের ছেলে। তিনি ২০১২ সালে এসএসসি পাস করার পর ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে নিয়মিত পড়ালেখা না করায় তিনি দ্রুত পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েন। পরে তিনি মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা programme-এ ভর্তি হলেও পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত কোন সেমিস্টারেই পাস করেননি। শিক্ষাজীবনের এই ব্যর্থতাই তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে প্রতারণা ও নারী নির্যাতন: পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার পর সজিব নিজেকে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। কিন্তু তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি স্থানীয় বিবাহিত নারীদের পারিবারিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং গোপনে তা ভিডিও ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তিনি তাদের মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এমনকি ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তিনি নারীদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দপ্তরে দালালি ও সাংবাদিক পেশা ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন। জমির নামজারির নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সমাজের পারিবারিক ছোটখাটো বিষয়কে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করেছেন। মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

একাধিক মামলা ও পূর্বের কারাদণ্ড:
পুলিশ জানিয়েছে, সজিবের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় এর আগেও একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি এর আগে ধর্ষণ মামলায় কারাভোগও করেছেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেও তিনি তার অপরাধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি আবারও এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই নারী সাহস করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আবারও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

ভুক্তভোগীর বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া:
মামলার বাদী ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, সজিব তাকে বিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং পরে ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেয়। তিনি দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন সজিবের মতো প্রতারক আর কাউকে শিকার করতে না পারে।

পুলিশের অবস্থান ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা:
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, *"আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার আগের অপরাধের রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে। আমরা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।"

স্থানীয় জনমত ও দাবি:
স্থানীয় বাসিন্দারা সজিবের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সজিব দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ করে আসছিল কিন্তু ভয়-ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। সম্প্রতি ভুক্তভোগী সাহস করে মামলা করায় অন্য নির্যাতিত নারীরাও আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাইবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যেন এ ধরনের অপরাধ পুনরায় না ঘটে।

আইনজীবীদের মতামত:
আইনজীবীরা বলছেন, সজিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণা—এই তিনটি ধারায় একযোগে মামলা হওয়া উচিত। তারা বলেন, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা সাইবার অপরাধও বটে। তাই এ মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ব্যবহার করে এক ব্যক্তি যখন অপরাধী কর্মকাণ্ড চালায়, তখন তা সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়। সজিবের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সজাগ দৃষ্টি থাকা আবশ্যক যেন এই ধরনের ছদ্মবেশী অপরাধীরা সমাজের শান্তি নষ্ট করতে না পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৪

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। সব মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।